Islamik Hadish & Quran

মাহে রমজান ২০২০ (ক্যালেন্ডার, নিয়ত, ম্যাসেজ, পিকচার ও সময় সূচি)

মাহে রমজান ২০২০ মাস অবশ্যই মুসলমানদের জন্য আল্লাহর নিকট থেকে বিশেষ একটি রহমত স্বরূপ। কোরআন ও হাদীসে এই রমজান সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের ভিতর রমজান অন্যতম একটি।

প্রতিটি সুস্থ মুসলমান নর-নারীর ওপর এই রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, একই সঙ্গে এর অসংখ্য ফজিলত ও সওয়াবের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে কোরআন ও বিভিন্ন হাদীসে। আবার রমজান শেষে বিশ্বব্যাপী সমস্ত মুসলমান শাওয়াল মাসের ১ তারিখে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করে।

মাহে রমজান ২০২০ তারিখ

চলতি বছরের মাহে রমজান ২৩ এপ্রিল ২০২০ রোজ বৃহস্পতিবার শুরু হবে আর ২৩ শে মে ২০২০ শনিবার শেষ হবে। তবে আমরা এই তারিখে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয় কারণ রমজানের চাঁদ দেখার উপর তারিখের তারতম্য হতে পারে।

এই রমজান মাস অন্যান্য মাসের তুলনায় একটু আলাদা। এই মাসের গুরুত্ব অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। অতএব রমজান এর সওয়াব গুলো পেতে এই মাসে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী আমাদের কিছু নির্দিষ্ট কার্যকলাপ সম্পন্ন করতে হয়। নিম্মে এর সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করা হলো।

রমজানের ক্যালেন্ডার।

মাহে রমজান ২০২০ ইমেজ

রমজানের ক্যালেন্ডার

মাহে রমজান এর ফজিলত।

হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, রোজাদারদের পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নিজে প্রদান করবেন। অন্য এক হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে রোজা প্রত্যেকটি মুসলিম মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ। রমজানের ফজিলত হয়তো বলে শেষ করা যাবেনা।

রমজান মাসের এবাদত এমন একটি ইবাদত যা সরাসরি দেখা যায় না। কেউ হজ পালন করলে যেমন সরাসরি দেখা যায় নামাজ আদায় করলে তা দেখা যায় কিন্তু রমজান মাসে রোজা থাকলে তা সচরাচর না বললে বোঝা যায় না।

মুসলমানদের পবিত্র কুরআন মাজীদ এই রমজান মাসে নাযিল হয়েছিল। আবার বদরের যুদ্ধ ঠিক এই রমজান মাসে সংঘটিত হয়েছিল। তাই রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি।

রমজান মাসের প্রতিটি দিনের অসংখ্য ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। এর ভিতর শেষ দশদিনে এত্যেকাফের ফজিলত ও হাদীস শরীফে অনেকবার আলোবার করা হয়েছে। এত্যেকাফের কারনে যে মূল্যবান লাভ হয় আমাদের , তা হলো বান্দা যেমন এবাদত করে সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্যতা লাভ করে। একই সঙ্গে লাইলাতুল কদরের রাতও ভাগ্যে জোটে।

কারণ এত্যেকাফের কারনে সারারাত মসজিদে থাকার কারনে এই সৌভাগ্যের রাত্রি আমরা পেয়ে থাকি। এত্যেকাফ ও লাইলাতুল কদরের সওয়াব ও বর্ননা সম্পর্কে ইত্তেকাফ ও লাইলাতুল কদর অংশে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে।

রোজার অর্থ কি…?

রোজা ফারসি শব্দ যার অর্থ বিরত থাকা। রোজা কে আরবি ভাষায় সাওম বলা হয়। সাওম এর অর্থ বিরত থাকা আত্মসংযম পালন করা ইত্যাদি। মোটকথা ইসলামী ভাষায় মহান আল্লাহতালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সুবহে সাদিক মানে সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন প্রকার পানাহার ও দৈহিক কোন সস্থি থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

এমনিতেই রমজান মাসে যে কোন মাসের ইবাদতের চেয়ে কয়েকগুন সওয়াব বেশি রয়েছে। এজন্য অন্য যেকোনো মাসের চেয়ে রমজান মাসের এক রাকাত নফল এবাদতে অন্যান্য মাসের তুলনায় ৭০ গুন সওয়াব বেশির কথা হাদীসে উল্লেখ আছে।রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে রোযাদারের মানসিক উৎকর্ষ উন্নীত হয়, অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। রোজা পালনকারী ব্যক্তি “রাইয়ান” নামক দরজা দিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করবে।

মাহে রমজানে রোজা রাখা।

রমজান মাস মুসলিমদের জন্য একটি নেয়ামত স্বরূপ। এই মাসে মুসলমানেরা রোজা রাখবে।প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির উপরে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।

সূরা বাকারাহঃ ১৮৩

আর যে রমজানের রেজাকে অস্বীকার করবে সে মুসলমান থাকবে না। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দু’বছর পরে রমজানের রোজা কে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে কিছু কারণ আছে যেগুলো বিদ্যমান থাকলে রোজা থেকে বিরত থাকতে পারবে।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজিদে বলেছেনঃ-

রমজান মাস মানুষের সঠিক এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যের পার্থক্যকারী রূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন তার রোজা পালন করে। আর যে অসুস্থ মুসাফির থাকে তাকে অন্যদিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ করতে চান তিনি তোমাদের কষ্ট চান না যেন তোমরা রোজার নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পারো এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্য তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ করা এবং তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।

সূরা বাকারাহঃআয়াত ১৮৫

যাদের উপর রোজা ফরজ নয়।

উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলেম-ওলামাগণ নিম্নলিখিত কারণগুলি উল্লেখ করেছেনঃ

  • দূরপাল্লার ভ্রমণকারীরা (যদি সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়)।
  • শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি।
  • নারীদের মাসিকের সময়।
  • গর্ভবতী নারিদের ক্ষেত্রে।
  • বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের ক্ষেত্রে।
  • অতি বৃদ্ধ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে (যদি রোজা তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে)।
  • ৮ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে।

রোজা ভঙ্গের কিছু কারণ সমূহ জেনে নেই।

  • ইচ্ছা করে কোন কিছু খেলে বা পান করলে।
  • রোজা কৃত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে।
  • কোন অবৈধ কাজ করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে কিছু খেলে।
  • নাকে বা কানে ওষুধ দিলে।
  • ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে বা অল্প বমি আসলে তা গিলে ফেললে।
  • কোন ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হলে।
  • গড়গড়া সহ কুলি করলে বা কুলি করার সময় গলার ভিতরে পানি চলে গেলে।
  • অতিরিক্ত উত্তেজনার ফলে বীর্যপাত হলে।
  • কোনো খাদ্য দ্রব্য খেলে।
  • নেশাজাতীয় দ্রব্য খেলে।
  • ধূমপান এর কারনে।
  • আগরবাতি বা কোন কিছুর ধোয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে ঢুকালে।
  • সময় আছে বলে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহরি করলে।
  • ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের আগেই ইফতারি করলে।
  • দাঁত দিয়ে রক্ত বেরিয়ে গেলে।
  • জোর করে রোজাদারের গলার ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে দিলে।
  • হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত ঘটালে।
  • মুখে পান বা কোনো খাদ্যদ্রব্য রেখে ঘুমালে আর সে অবস্থায় সেহেরির সময় পার হয়ে গেলে।

কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা।

হাদীসে উল্লেখ আছে যে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন এই পবিত্র রমজান মাসে নাযিল হয়েছিল। তাই এই মাসকে কুরআনের মাস বলা হয়। তাই আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই রমজান মাসে পবিত্র কুরআন মাজীদ একবার হলেও তেলাওয়াত করা। এই পবিত্র রমজান মাসে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব। মহা পবিত্র কোরআন শরীফে মোট ৩০ টি পারা রয়েছে। আর আপনি যদি প্রতিদিন একটি করে পারা পড়েন তাহলে এই ৩০ পারা সম্পূর্ণ করা এই পবিত্র রমজান মাসে সম্ভব। তাছাড়া এই রমজান মাসে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা অন্যান্য মাসের তুলনায় ৭০ গুন সওয়াব বেশি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা নফল ইবাদতের মধ্যে অন্যতম একটি।

যে ব্যক্তি কুরআন মাজীদ কে সুন্দর, মসৃণ ও নির্ভুলভাবে তেলাওয়াত করবে। সে হবে মহৎ ও আনুগত্যকারী ফেরেশতাগণের সঙ্গী। আর যে ব্যক্তি সমূহ পড়ার সময় অসুবিধা সহ্য করে অর্থাৎ উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খায়, তার জন্যে রয়েছে দু’টি পুরস্কার।

সুত্রঃ সহি বুখারী

মাহে রমজান এ তারাবির নামাজ।

মাহে রমজান এর এই পবিত্র মাসে তারাবির নামাজ একটি এবাদত। অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি মাহে রমজান মাসে তারাবির নামাজ একটি নির্দিষ্ট নামাজ। যেটা এশার নামাজের পরে আদায় করতে হয়। এই তারাবির নামাজ রমজানের চাঁদ দেখার পর এশার নামাজের পর থেকে শুরু হয় এবং রমজান মাসের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন রাত্রে এশার নামাজের পরে আদায় করতে হয়।

কোন কোন মসজিদে এই তারাবির নামাজ একজন কোরআনে হাফেজ নেতৃত্ব দেন। সুতরাং তিনি ৩০ রমজানের ৩০ দিনে ৩০ পারা কোরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করেন। আবার কোন কোন মসজিদে নির্দিষ্ট কিছু সূরার তেলাওয়াত দাড়াও এই তারাবি সম্পন্ন করেন। আপনি যদি প্রতিদিন এই নামাজে অংশগ্রহণ করেন তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে আপনি পুরস্কার লাভ করবেন।

পবিত্র মাহে রমজানের সময় তারাবির নামাজ শেষে বেতেরের নামাজ আদায় করা হয়। তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। পরপর তাশাহুদ, দরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।

মাহে রমজান ২০২০

তারাবির দোয়া

 

মাহে রমজান ২০২০

তারাবির মোনাজাত ছবি

 

ইত্তেকাফ।

“ইত্তেকাফ” শব্দটির অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা। কারণ ইত্তেকাফ এর সময় মসজিদে অবস্থান করতে হয়। ইতিকাফ রমজানের আরেকটি ইবাদত। মাহে রমজানের শেষ দশ ১০ দিনে বাসা থেকে আলাদা হয়ে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত করাই ইত্তেকাফ।

পবিত্র মাহে রমজানের পর থেকে ইতিকাফের সময় শুরু হয় আর ঈদের চাঁদ দেখা দিলে এর সময়কাল শেষ হবে। ইতিকাফের সময় মুসলমানদের মসজিদে অবস্থান করে দুনিয়ার সমস্ত বিষয়গুলি থেকে দূরে থাকতে হয়। আরজে লোকজন ইত্তেকাফে অবস্থান করে তাদের পুরো দিনটি আল্লাহর এবাদত করে কাটাতে হয়।

যেমন- বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, হাদিস পড়া আবার ইসলামিক হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমজান মাসের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন, আর তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী গন ইত্তিকাফ করতেন।

সহি বুখারীঃ ২০২৬

 

লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে।

মাহে রমজান মাসে লাইলাতুল কদরের রাত মুসলমানদের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ রাত। তবে লাইলাতুল কদরের রাত্রি টি রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে, অর্থাৎ ২১,২৩,২৭,২৯ শে রমজান এর রাত্রি হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু লাইলাতুল কদরের রাত সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে লাইলাতুল কদর হিসেবে জাঁকজমকপূর্ণ রূপে ২৭ শে রমজানের রাতে পালন করা হয়। আর এই রাতটি প্রত্যেকটি মুসলমানের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই কদরের রাতে ইবাদত করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে, আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর এই লাইলাতুল কদরের রাতে মোহাম্মদ (সঃ) এর নিকট পবিত্র কুরআন মাজীদ নাযিল হয়। পবিত্র কোরআনের ভাষায় এই রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

লাইলাতুল কদরের রাতে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালা শেষ আকাশে নেমে আসেন। আর তার বান্দাদেরকে তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তাই আমাদের সকলের উচিত এই রাতে আল্লাহর কাছে বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর পুরো রাত এবাদত বন্দেগী করে কাটিয়ে দেওয়া।

নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।সে রাতে ফেরেসতা ও রূহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।

সুরা কদর

যাকাত কাদের প্রদান করা যায়।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো যাকাত। প্রত্যেকটি ধনী ব্যক্তির সম্পদের কিছু অংশ অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে দেওয়ার নামে হচ্ছে যাকাত। যাকাতের আভিধানিক অর্থ পরিশুদ্ধ হওয়া বৃদ্ধি পাওয়া।

যাকাত আদায় করা মানে নিজের সহায়-সম্পত্তি কে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করা। রমজান মাসে যাকাত দেওয়া অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক সওয়াব। যাকাত হলো সম্পদ বিশুদ্ধ করার অন্যতম উপায়, তবে সবার জন্য যাকাত ফরজ নয়।

ইসলামী বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সঞ্চয় থাকলে যাকাত আদায় বাধ্যতামূলক। ইসলামের প্রতিটি মুমিনের জন্য যাকাত আদায় একটি অবশ্য কর্তব্য। যাকাত আদায় যাদের জন্য ফরজ তারা তারা না করলে পরকালে তাদের কঠিন সাজার সম্মুখীন হবে।

যাকাত ফরজ হওয়ার কিছু শর্ত সমূহ।

  • সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক হওয়া।
  • মুসলমান হওয়ার কারণ কাফেরের উপর যাকাত ফরজ নয়।
  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। জ্ঞানী ও সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া কারণ পাগলের উপর যাকাত ফরজ নয়।
  • স্বাধীন ও মুক্ত হওয়া।
  • যাকাত ফরজ হওয়ার নির্দিষ্ট মালামাল বা পরিপুরক অর্থের পূর্ণ মালিকানা থাকা।

আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে রাজত্ব দান করি, তাহলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখবে, আর সব কাজের চূড়ান্ত পরিণতি একান্তই আল্লাহর ইচ্ছাধীন।

(সূরা হাজ্জ ২২:৪১)

যাকাত কাদেরকে দিতে হবে।

ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী আর ধরনের লোককে যাকাত দেওয়া যেতে পারে। যদি আপনি যাকাত দিতে চান তাহলে তাদের সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হয়ে যানুন। আর যারা এর প্রাপ্য শুধু তাদের কি যাকাত দিন।

  • গরিব কিন্তু সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক নন।
  • এতিম ও মিসকিন যাদের কোনো সম্পদ নেই।
  • ইসলামী রাষ্ট্র গুলোর রাষ্ট্রীয় ভান্ডারের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায় কারী আলেম-ওলামাগন কে।
  • নব মুসলিম কে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর জন্য।
  • দাস দাসির জন্য।
  • ঋণগ্রস্তদের জন্য।
  • আল্লাহর রাস্তায় থাকা মানুষের জন্য।
  • গরিব দুঃখী ও অসহায় ব্যক্তিদের জন্য।
  • মুসাফির ব্যক্তিকে।

রমজান মাসের গুরুত্ব।

পবিত্র রমজান মাস আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই রমজান মাস নেয়ামতের মাস মুসলমানদের সমস্ত পাপ মুছে ফেলার মাস। তাই আমাদের উচিত এই রমজান মাসে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আর বেশি বেশি বেশি বেশি আমল করা উচিত।

রমজান মাস গুনাহ মাফের মাস। পবিত্র মাহে রমজান মাসে একটি সওয়াবের কাজ করলে অন্যান্য মাসের তুলনায় ৭০ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এই রমজান মাসে জাহান্নামের দরজা সব বন্ধ করে দেয়া হয়, এবং জান্নাতের সব দরজা খুলে দেয়া হয ও সমস্ত কবরবাসীর গোর আজাব মাফ করে দেয়া হয়।

সেহরি ও ইফতারের দোয়া সমূহ।

রমজানের রোজা রাখার জন্য নিয়ত করার প্রয়োজন আছে। কারন সব কিছুই সেই নিয়তের উপর নির্ভরশীল।তাই রোজার রাখার জন্য সেহরি ও ইফতারির দোয়া নিচ থেকে ডাউনলোড করে নিবেন।

মাহে রমজান ২০২০

সেহরির নিয়ত

 

মাহে রমজান ২০২০

ইফতারির দোয়া

মাহে রমজানের পিকচার।

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০ পিকচার

মাহে রমজান ২০২০ পিকচার

মাহে রমজান ২০২০ পিকচার

মাহে রমজান ২০২০ ছবি

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০

মাহে রমজান ২০২০ ইমেজ

মাহে রমজান ২০২০ পিকচার

আরো পড়ুনঃ-ব্রন দূর করার ঘরোয়া উপায় সমূহ।

মাহে রমজান ম্যাসেজ।

রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়ে বেশী ঘ্রানযুক্ত। ✓আল হাদিস

সামনে আসছে রোজা। হালকা কর গোনাহের বোঝা। যদি কর পাপ, চেয়ে নাও মাফ। এসো নিয়তকরি। আজ থেকে সবাই পাঁচওয়াক্ত নামাজ পরি।

এলো রে এলো ওই মাহে রমজান। মানবজাতির তরে আল্লহতায়ালার শ্রেষ্ঠ দান। পুণ্যের সূর্য উদয় হয়ে, পাপের হবে অবসান। জং গুলো সব ঝড়ে গিয়ে ঈমান করবে শাণ। রহমতেরই ডালি নিয়ে আসছে ওই মাহে রমজান!

উড়ছে পাখি গাচ্ছে গান.. মাহে রমজানের আহবান.. ওরে বন্ধু মুসলমান পড়তে থাকো আল কোরান… কোরান পড় বেশি বেশি।

দেখো ঐ পর্ব গগণে উঠছে চাঁদ শুরু হল রমজান মাস… রমজানের আগমনে রহমতের দোয়ার খোলে… সবাই মিলে শপথ করি রোজা রাখবো ৩০টি.. রমজান মোবারক

১,২,৩ আসছে রোজার দিন ।
৪,৫,৬ রোজা রাখতে কিসের ভয় ।
৭,৮,৯ খারাপ কাজ আর নয় ।
১০,১১,১২ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড় ।

মাটির দেহ নিয়ে কখনও করিওনা বরাই,
দুচোখ বন্ধ হলে দেখবে পাশে কেউ নাই।
যাকে তুমি আপন ভাবো সে হবে পর,
আপন হবে নামাজ, রোজা অন্ধাকার কবর।”

এক এক করে চলে যাবে মাহে রমযান,
কি করে দিবো আমি তার প্রতিদান।
ক্ষমার আশায় আজও আমি তুলি দুই হাত,
কবুল করো আল্লাহ তুমি আমার মোনাজাত।

মাহে রমজান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার নিকটতম আশার একটি মাস, আমাদের গুনাহ মাফের একটি মাস। তাই আমাদের উচিৎ এই মাসে বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করা। আর গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর নিকট মুনাজাত করে ক্ষমা চাওয়া।

এ মাসে প্রত্যেকটি আমলে যেমন রয়েছে অন্যান্ন মাসের চেয়ে বেসি ফজিলত তেমনি প্রত্যেকটি কাজেও অন্যান্ন মাসের চেয়ে বেশি পাপ। তাই আমরা পাপ থেকে বিরত থাকি ও আল্লাহর দেখানো পথে জীবনযাপন করি।

6 Comments

6 Comments

  1. Pingback: ফি আমানিল্লাহ বলা জায়েজ কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top