LifeStyle

বেদানা খাওয়ার উপকারিতা ও গুনাগুন।

"<yoastmark

বেদানা খাওয়ার উপকারিতা।

 

এই ফল টি চিনেনা এমন লোক হয়ত বিশ্বে নেই। আর এটা আনার বা ডালিম নামেও পরিচিত। আর আমাদের আজকের টপিক টি হল বেদানা খাওয়ার উপকারিতা ও বিভিন্ন গুনাগুণ সম্পর্কে । বর্তমানে আমাদের শরীর কে সুস্থ ও সবল রাখতে নিজেকে সচল রাখতে হবে। আর মোটামুটি ভাবে খাওয়া দাওয়ার দিকে একটু সচেতন হলেই আমাদের শরীর সচল হবে।

আর আমরা খাওয়া দাওয়ার দিক থেকে হয়ত চিন্তা করি কি খাওয়া যায় আর কি খাওয়া যায়না। আর এই চিন্তার অনেকখানিই যদি সমাধান করে মাত্র একটি ফল তাহলে হয়ত ব্যাপারটা ভালোই হয় কি বলেন তাইনা। আর তেমনি আমাদের মানব শরীরের জন্য উপকারী একটি ফল হলো বেদানা। তাই বেদানা খাওয়ার উপকারিতা বিবেচনা করে  আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে যদি একটি করে বেদানা রাখা যায় তাহলে আর চিন্তা কি।

 

আমাদের ইচ্ছেঘুড়ি  ব্লগে আপনাকে স্বাগতম । আশা জরি সবাই ভালো আছেন আর আমরাও চাই আপনারা সবাই ভালো থাকুন । তাই আজ আপনাদের সামনে নিয়ে আসলাম নতুন একটি ট্রিক বেদানা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। তাই এ সম্পর্কে জানতে সম্পুর্ন টা পড়ে নিবেন আশা করি।

 

আরো পড়ুনঃ- সেরা ১০ টি কম্পিউটার ব্রাউজার সম্পর্কে

 

বেদানা খাওয়ার উপকারিতা।

বেদানার আমাদের শরিরের রোগমুক্তির জন্য অনেকন প্রকারের রকটি কার্যকরি ফল । আমাদের শরিরের রোগমুক্তির জন্য ও নিজেকে সুস্থ সবল রাখার জন্য বেদানা একটি উপকারি ফল নিম্মে এর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

 

বেদানার খাদ্যগুনাগুন

একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেশনায় বিজ্ঞানিরা একটা বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়েছেন যে।  বর্তমান সময়ের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে নিজেকে এবং শরির কে বাঁচাতে বেদনার রসের কোনো বিকল্প নেই। কারন এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ফাইবার, খনিজ, স্নেহ, আমিষ, শর্করা, এসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, অস্কালিড, রাইবোফ্লাভিল, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, নায়াসিন, পটাসিয়াম, আন্টি-অস্কিডেন্ট, ফলেট, পলিফেলন এবং পুনিসিস থাকে ।

আর বেদানার এসব শক্তিশালী উপাদান সমূহ দেহে প্রবেশ করা মাত্রই শরীরের প্রতিটি কোষ ,শিরা-উপশিরা আর বিভিন্ন অঙ্গগুলোর ক্ষমতাকেও অনেক গুন বাড়িয়ে তোলে । সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তোলে আর এ জন্য ছোট বড় থেকে সহজেই দূরে থাকা যায়। শুধু তাই নয় প্রতিদিনের রুটিনে এই ফলের রসকে জায়গা করে দিলে নানাবিধ উপকারের পাশাপাশি অনেক রোগের থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। চলুন যেনে নেয়া যাক। আর বেদানা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানুন।

 

ভিটামিনের অভাব দূর

আমাদের শরির কে সুস্থ সবল রাখার জন্য প্রতিদিন যে সমস্ত ভিটামিনগুলোর দরকার হয় তার প্রায় সবগুলর সন্ধান এই বেদনার মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন- ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, খনিজ, স্নেহ, আমিষ, শর্করা সহ আরো অনেক যা আমি খাদ্য গুনাগুণ এ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই আপনি যদি আপনার দৈনিক রুটিনে বেদানা না রেখে থাকেন তাহলে আর দেরি না করে আজ থেকেই যোগ করে নিন এটা আপনার রুটিনে।

পেটের সমস্যা দূর

অতিমাত্রায় খাওয়া দাওয়ার কারনে বা কোনো ভুলভাল কিছু অথবা ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত কিছু খাওয়ার কারনে যদি পেটে ব্যাথা সহ পেট খারাপ করে । তাহলে আর দেরি না করতে সাথে সাথে অল্প করে বা আপনার হাতের ১ মুঠো পরিমাণ বেদানা খেয়ে ফেলুন দেখবেন কষ্ট কমে গেছে। কারন বেদানার বিদ্যমান থাকা এর একাধিক উপাদান শরীরের স্টমাকে সুস্থ করে তার কার্যক্ষমতা কে কয়েক গুন বাড়িয়ে দিতে সাহায্য। করে আর সেই সংগে হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

হার্টের ক্ষমতা বাড়াতে

বেদানাতে প্রচুর পরিমাণ পলিফেনল ও আন্টি-অস্কিডেন্ট থাকে যা মানব শরীরের ধমনির দেওয়াগুলিকে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দ্বারা ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আপনার রোজকার খাবারের মেনুতে এই ফলটি যদি থাকে তাহলে এটার প্রতিদিন খাওয়ার কারনে আপনার সরিরে রক্তের প্রবাহ অনেক পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে আর এই কারনে স্বাভাবিকের চেয়ে হার্টের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায় আর সেই সঙ্গে হার্ট এট্যাক বা স্ট্রোকের মত মরণ ব্যাধি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। কারন বেদানায় থাকা আন্টি-অস্কিডেন্ট বিভিন্নভাবে হার্টের খেয়াল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাছাড়াও বেদানা আমাদের শরীরকে কোলেস্টর ও অস্কিডেসনের হাত থেকে রক্ষা করে যা আমাদের দেহের করোনারি আর্টারি রোগের মূল কারন। অতএব প্রতিদিন বেদানা খাওয়ার অভ্যাস করা আমাদের সকলের জন্য জরুরি।

মস্তিস্কের সমস্যা থেকে সমাধান

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বেদানার অনেক অ্যান্টি-অস্কিডেন্ট সরিরে প্রবেশ করার কারনে মস্তিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রেইন সেলের ক্ষমতা এত গুনে বৃদ্ধি পায় যে অ্যালঝাইমার্সের মতো মস্তিষ্ক বা ব্রেইন জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকেনা বললেই হয়।

চুল পড়ার থেকে মুক্তি

যাদের অতিমাত্রায় চুল পড়ার কারনে খুব চিন্তায় রয়েছেন, তাদের জন্য বেদানার রস হবে একটি অন্যতম উপকারী মহা-ঔষধ। কারন এতে নানা রকম ভিটামিন এর উপস্থিতিটি বিদ্যমান থাকাতে চুল পড়া বন্ধের জন্য অনেক কার্যকরি। আপনি তাহলে প্রতিদিন বেদানার রস খাওয়া শুরু করে দিন আর দেখুন আপনার চুল পড়ার মাত্রা তো কমবেই সাথে সাথে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে আগের তুলনায় অনেক।

ক্যান্সার থেকে মুক্তি

বেদানায় বিদতামান থাকা ফ্লেবোনয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অস্কিডেন্ট রয়েছে যা রক্তা উপস্থিত থাকা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানগুলি শরীর থেকে বের করে দেয়। এর ফলে শরীরের ভিতরে কোনোভাবেই ক্যান্সারের সেল তৈরি হবার কোনো আশঙ্কা থাকে না। সাম্প্রতি বেশ কিছু গবেশনায় দেখা গেছে যে প্রস্টেট এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার কে দূরে রাখার জন্যও এই ফলটি বেস সহায়ক।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে

বেস কিছু গবেষণা অনুসারে প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে বেদানাকে জায়গা করে দিলে ত্বকের পরিবর্তন হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ত্বকের ডার্ক স্পট ও দূর হয়ে যায়। আর এর ফলে ত্বকের সৌন্দর্য অনেক গুনে বেড়ে যায় যা চোখে পড়ার মত। তাই দৈনিক খাবারের মেনুতে বেদানাটা রাখুন।

অ্যানিমিয়া রোগ থেকে মুক্তি

কেন্দ্রীয় সরকার এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, প্রতি বছর আমাদের দেশে অ্যামোনিয়ার প্রকোপ প্রচুর পরিমানে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বেদানা খাওয়ার প্রয়োজন অবাক মাত্রায় বেড়েছে। কারন বেদানায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন যা শরীরের লহিত রক্ত কণিকার উতপন্ন বাড়িয়ে দিয়ে রক্তসল্পতার মত সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে থাকে। আর বিষেশ করে মেয়েদের ছোট থেকেই এই কারনেই নিয়মত বেদানা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ডায়বেটিস থেকে মুক্তির জন্য

পরিবারের কেউ যদি এই মারাক্তক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে আর দেরি না করে আজ থেকেই বেদানা খাও্যা শুরু করে দিন। তাহলে দেখবেন আপনার শরিরে এই মারাক্তক রোগ ডায়বেটিস আর বাসা বাধতে পারবে না। কারন বেদানা খাওয়া মাত্রই শরোরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যা আপনার রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে চলে আশে। ফলে টাইপ-২ ডায়বেটিস এর মত রোগ আপনার শরীরে বাশা বাধতে পারবে না। সাথে সাথে আক্রান্ত রোগিকেও নিয়মিত খাওয়ানোর অভ্যাস করুন দেখবেন নিয়ন্ত্রনে ভিতর চলে আসবে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের জন্য

শুনতে খারাব লাগলেও কথা সত্য কারন একাধিক গবেষনায় প্রমানিত, নিয়মিত কাঁচা বেদানা বা বেদানার রস খাওয়া শুরু করে দিলে ব্লাড ভেসেলে তৈরি হওয়া প্রবাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সারা শরিরে রক্তের প্রবাহ এতটা ক্লিয়ার হয় যে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে চলে আসতে সময় লাগে না। তাই যাদের পরিবারে এই রোগের সমস্যা রয়েছে , আর তারা যদি নিয়মিত সুস্থ থাকতে চান তাহলে এই ফলটিকে প্রতিদিনের সঙ্গী বানাতে ভুলবেন না আশা করি।

জয়েন্টের সচলতা বৃদ্ধি

মানুষের শরিরে যখন ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমতে শুরু করে তখন কিছু ক্ষতিকর এনজাইমের ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। আর বিভিন্ন জয়েন্টের সচলতা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে হাড় এত পরিমান দুর্বল হয়ে পড়ে যে অস্টি ও আর্থ্রাইটিস এর মত রোগের আশঙ্কা বাড়তে শুরু করে। আর এই রোগের হাত থেকে মুক্তির জন্য বেদানা অনেকভাবে আপনার কাজে আসতে পারে। যেমন এনজাইমের কারনে যে হাড়ের ক্ষয় হয়ে থাকে বেদানা তার ক্ষয় কমিয়ে দিয়ে আর্থ্রাইটিস এর মত রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা কমাতে সহায়তা করে।

ক্যাভিটির (দাত) সমস্যা সমাধানে

বেদানায় উপস্থিত থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া ও অ্যান্টি-ভাইরাল এ পরিপুর্ন থাকা এই ফলটি খাওয়া মাত্র মুখের ভিতরে উপস্থিত থাকা ক্ষতিকর জিবানু মারা যায়। ফলে ক্যাভিটির মত সমস্যা থেকে সহযেই মুক্তি মিলে আর দাতের গোড়াও মজবিত থাকে।

হজম শক্তি স্বাভাবিক রাখতে

আমাদের শরির কে শুস্থ রাখার জন্য দৈনন্দিক খাবারের পাশাপাশি আমাদের হিজম ক্ষমতাও স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় যে অতরিক্ত জাঙ্কফুড খাও্যার কারনে বা সময় মত না খাওইয়া দাওয়ার ফলে আমাদের হজম শক্তিতে ব্যাঘাত ঘটে থাকে যার ফলে আমাদের হজম শক্তি খারাপ হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন একটি করে বেদানা খেলে আমাদের শরিরে প্রয়োজনিয় ফাইবারের অনেকটাই যোগান দেয় যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

এছাড়াও আরো অনেক রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এই বেদানার সাহায্যে তাই যারা এখোনো প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে বাদানা যোহ করেন নি তারা এখোনি যোগ করে নিন।

 

ফেসবুকে আমাদের আপডেট পেতে চাইলে আমাদের সাথে ফেসবুকে এড হতে চাইলে আমাদের পেজ লিংকে ক্লিক করে আমাদের পেজে লাইক করে রাখুন …।

ফেসবুকে আমরা

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top