LifeStyle

পুদিনা পাতার গুনাগুন (উপকারিতা, ব্যাবহার বিধি, রুপচর্চা ও বৈশিষ্ট)

পুদিনা পাতার সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত কিন্তু এই পুদিনা পাতার গুনাগুন রয়েছে অনেক যা আমাদের অনেকেরই অজানা। তাই আজকে আমরা সেরকম কিছু নিয়েই আলোচনা করবো।

পুদিনা পাতা আমাদের দৈনন্দিক বিভিন্ন কাজে প্র‍য়োজন হয়।এই পুদিনা পাতা রান্না বান্না সুগন্দি করা থেকে শুরু করে শরিরের বিভিন্ন অংশের কাজের জন্য বিভিন্ন ভাবে এর ব্যাবহার করা যায়। আর আজকে আমরা সেরকম কিছু গুনাবলি নিয়েই আলোচনা করবো।

পুদিনা পাতার গুনাগুন।

এক কথায় পুদিনা পাতার গুনাবলি বলে শেস করা যাবেনা। তবে এই পুদিনা পাতা আমাদের শরিরের বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন কাজে লাগে। এই পুদিনা পাতা রান্না সুস্বাদু করার কাজে, শরবত, চাটনি ও কাচা যেভাবেই আপনি খান আশা করি উপকৃত হবেন।

নিম্মে আলোচনা করা হলো কোন কাজে কিভাবে ব্যাবহার করা যায়।

আরো পডুনঃ – ব্রন দূর করার ঘরোয়া উপায় সমূহ।

রান্নার কাজে।

রান্নার কাজে পুদিনা পাতার ব্যাবহার আতুলনিয়। বিভিন্ন প্রকার রান্নায় পুদিনা পাতা স্বাদ বাড়াতে সহায়তা করে।আর সুস্বাদু বোরহানি আর বিরিয়ানি রান্নাতে পুদিনা পাতা ব্যাবহার করা হয়। আর স্বাদ বিহিন কোনো রান্নাই যে মুখরোচন না এটা তো আমরা বুঝতেই পারি।

শরির সতেজ ও ঠান্ডা রাখতে।

এই পুদিনা পাতা দেখতে ছোট হলেও এর গুনাগুন অনেক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন “এ”। বিষাক্ত প্রানির বিষ নষ্ট করার মত প্রচুর ক্ষমতাও রয়েছে এই পাতার। গরমের সময়ে প্রচুর গরমে শরিল গরম হয়ে গেলে পুদিনা পাতার রস ও লেবু দিয়ে সরবত বানিয়ে খেলে শরির ঠান্ডা থাকে।

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে ও রুচি।

পুদিনা পাতা হজম শক্তিতে বেশ কার্যকর ভুকিকা রাখে। আর ক্ষুদা বাড়ানোর ক্ষমতাও রয়েছে এই পাতার। তাই খাওয়ার ওরুচি দেখা দিলে, প্রতিদিন পুদিনা পাতা শরবত করে খেলে আস্তে আস্তে খাবারের রুচি বৃদ্ধি পাবে।

আবার হজম শক্তিতে সমস্যা হলেও এই শরবত পান করালে হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর পুদিনা পাতা চাটনি করে খেলেও মুখের রুচি বৃদ্ধি পায়।

দাতের গুনাগুন বৃদ্ধি।

এই পুদিনা পাতা দাতের মৃদু ব্যাথা কমাতে ও দাতের গোডা শক্ত করার ক্ষেত্রেও একটি কার্যকরি উপায়। পুদিনা পাতা শুকিয়ে সেই শুকনো পাতা পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে সেই ছাই দিয়ে দাত মাজলে দাতের সংক্রমন দূর হয়।

সর্দি কাশির সংক্রমনে।

সাধারনত সর্দি কাশির জন্য পুদিনা পাতা দারুন একটি প্রাকৃতিক মহা ঔষধ। চায়ের সাথে পুদিনা পাতা খেলে শুকনো কাশি ও সর্দি ভালো হয়। পাশাপাশি গলার সমস্যাও দূর হয়। তারপর শুকনো কাশির জন্য ২,৩ টা পাতা হালকা একটু লবন দিয়ে ভিবিয়ে খেলেও এ সংক্রমন থেকে রেহাই পাওয়া যায় (সামান্য পরিমান মধুও নিতে পারেন লবনের সাথে)।

শিশুদের কৃমি কমাতে।

শিশুদের পুদিনা পাতা সাথে লবন ও মশু সমান ভাবে মিশিয়ে ২ মাস খাওয়ালে ক্রিমি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ব্রন ও মুখের তৈলাক্ত দূর করতে।

মুখে ব্রন হলে আমরা বুঝি কতটা বিপযস্ত হই আমরা। আবার কিছু লোক আছি মুখ যতই পরিক্ষার করা হয় কিন্তু খুব অল্প সময়ের মাঝেই আবার মুখে সেই তৈলাক্ত ভাবটা আবার চলে আসে। তাই এর থেকে মুক্তির জন্যও পুদিনা পাতার জুড়ি নেই।

মুখের ব্রন ও তৈলাক্ত ভাব দূর করা জন্য তাজা পুদিনা পাতা বেটে মুখে লাগিয়ে দিন। তারপর ১০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। আর ব্রনের দাগ দূর করার জন্য আপনাকে প্রতি রাতে পুদিনা পাতার রস লাগান আর কমপক্ষে ২ থেকে ৩ ঘন্টা রাখুন। সম্ভব হলে সারারাত ই রেখে দিন। সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

রোদে পোড়া ও ত্বক জ্বালা।

আমাদের বিভিন্ন কাজে সারাদিন বাইরে ঘোরাঘুরি করার প্র‍য়োজন হয়। ফলে রোদে পুড়ে ত্বকের সৌন্দর্য নস্ট হয়,ত্বক পুড়ে যায় । আর এর থেকে মুক্তি পেতে পুদিনা পাতার রস ও এল্যোবেরা একসঞ্জে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে দিন। তারপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন আর দেখুন সব জ্বালা শেস।

মাথার উকুন তাড়ানো।

এই সমস্যাটি সাধারনত সবার দেখা যায় না। সীমিত কিছু মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। তাই এই সমস্যার সমাধানের জন্য পুদিনা পাতার রস বা পুদিনা গাছের শিকড়ের রস, সম্পূর্ণ মাথায় চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগাতে হবে।

তারপর একটি পাতলা কাপড় দিয়ে মাথা পেচিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এভাবে এক ঘন্টা রাখার পর মাথা শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি সপ্তাহে অন্তত দুই বার করুন তাতে এক মাসেই উকুন বিনাশ হবে।

শ্বাস ও এজমার সমস্যা।

যারা মারাত্মক কষ্ট পান শ্বাস-প্রশ্বাস এর কারনে । আর এই কস্ট লাঘব করার জন্য যদি পুদিনা পাতার রস সেবন করেন , তাহলে এই কষ্ট থেকে অল্প সময়েই রেহাই পেতে পাবেন খুব অল্প সময়ে। আর যাঁরা অ্যাজমা ও কাশি জনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী।

আর যদি অত্যন্ত বেশি নিঃশ্বাস ও কাশি জনিত সমস্যায় ভুগেন তাহলে পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে সেই জলেরর ভাপ নিতে পারেন। আর ভাপ নিতে অসুবিধা হলে গরগরা সহ কুলি করার অভ্যাস করুন।

পুদিনা পাতার চা।

পুদিনা পাতায় মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমান “অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস” যা আমাদের পেটের যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যাঁরা হজম জনীত সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের নানান সমস্যায় ভূগছেন, তাঁরা প্রতিবেলা খাবার পর ১ কাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলুন। ৬ থেমে ৭টি তাজা ও পরিস্কার পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরে বসেই।

শরির ঠান্ডা রাখতে।

আমরা বিভিন্ন কাজে সারাদিন বাইরে রৌদ্রের তাপে ঘুরাঘুরি করে বেড়াতে হয়। এতে আমাদের শরির গরম হয়। আর এই গরমকালে আপনার শরীরকে ঠাণ্ডা রাখাতে পুদিনার রস খুব ভাল উপকারি । এটি করার জন্য গোসলের আগে পানির পাত্রের মধ্যে কিছু পুদিনা পাতা ফেলে রাখুন। তারপর সেই জল দিয়ে স্নান করলে শরীর ঠান্ডা থাকে।

ঘাম নিয়ন্ত্রণের জন্য।

গরমে যারা বেশি ঘাম এর সমস্যায় ভোগেন তারা কিছু পুদিনা পাতা ও গোলাপ ফুলের পাপড়ি একত্রে মিশিয়ে গরম পানিতে ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠাণ্ডা হলে সেই পানির সঙ্গে একটু পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে নিন। তারপর একটি বোতলে করে ফ্রিজে রেখে দিন। গোসলের পরে তেলের মত করে সারা শরীরে মাখিয়ে দিন।

বমিভাব ও মাথাব্যাথা দূর করতে।

আপনি যদি দূরে কোথাও ভ্রমনে যান, আর আপনার বাস গাড়িতে ভ্রমনকালে যদি বমি পায় তাহলে আপনি কিছু পুদিনা পাতা মুখের ভিতর রেখে আস্তে আস্তে করে চিবিয়ে খেতে পারেন। তাতে আপনার বমি বমি ভাবটা কেটে যাবে। আর মাথা ব্যাথা হলে পুদিনা পাতার রস কপালে ডলে দিতে পারেন বা পুদিনা পাতার ক্রিম কপালে লাগিয়ে রাখলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মাসিকের ব্যাথা কমাতে।

পুদিনা পাতা আমাদের রক্তকে বিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে ও বিভিন্ন অঞ্জ প্রত্যঞ্জকে আরাম দেয়। কোনো নারিদের মাসিকের সময় পেট ব্যথার সমস্যা টা যদি প্রতিমাসের নিত্য সঙ্গী হয়, তাহলে আপনি প্রতি দিন বেশ কয়েক কাপ পুদিনা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে সেবন করুন । সহজেই এই ব্যাথা থেকে পরিত্রান পাবেন।

 

পুদিনা পাতার গুনাগুন সম্পর্কে তো অনেক কিছুই আশা করি জানতে পারলেন। তাহলে আজ থেকে বাজারের মেনুতে অবশ্যই পুদিনা পাটা টি রাখতে ভুলবেন না।

1 Comment

1 Comment

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    To Top