Islamik Hadish & Quran

ফি আমানিল্লাহ বলা জায়েজ কিনা।

ফি আমানিল্লাহ শব্দ বা দোয়াটি আমরা সচরাচর কাউকে বিদায় দিতে ব্যাবহার কারে থাকি। আর এই শব্দটিকে আমরা বিদায় দেয়ার দোয়া হিসেবে আমরা নির্ধারন করেছি। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এর ভিক্তি বা প্রমান কতটুকু বা এর সত্যতা কি কখনো ভেবে দেখেছি?

আমরা মুসলিম সমাজে বসবাসকারি। তাই আমরা সর্বোপরি আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে ও আমাদের নবী রাসুল গনের দেখানো পথে চলার চেস্টা করি। আর তাছাড়া আমাদের সবার ই চেস্টা করা উচিৎ কোনো আমল করার আগে ইসলামে তার ভিত্তি ক্যামন বা প্রমান কি। আমাদের নবী রাসুলগন কি আমাদের করতে বলেছে কি না, বা এর কোনো হাদিস প্রমান আছে কিনা, সেগুলী যাচাই বাচাই করে তারপর আমল করা।

চলুন আমাদের মুল বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

ফি আমানিল্লাহ বলা জায়েজ কিনা.?

প্রথমে আমরা “ফি আমানিল্লাহ” এর অর্থ জেনে নেই।এর মোটামুটি অর্থ হলো “আপনাকে আল্লাহর নিরাপত্তায় দিয়ে দিলাম” “আল্লাহ নিরাপত্তা দিন”, “আল্লাহর নিরাপত্তায়”, “আল্লাহ যেন আপনাকে নিরাপদ রাখেন”। শাব্দিক অর্থে এই অর্থগুলোই হয়, যেকোনো টা ধরা যায়।

শব্দের অর্থগত দিক থেকে এর কোনো সমস্যা নাই। বরং আমরা সব সময় সর্ব ক্ষেত্রেই আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি ও নিরাপত্তা কামনা করি।

তবে উল্লেখীত “ফি আমানিল্লাহ” কথিত একটি সুন্দর দুআ। তবে তা হাদীসের দুআ নয়। কিন্তু হাদিসে যখন কোন বিষয়ে আমলের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রমান পাওয়া যাবে তখনও কি আমরা মুসলমান হিসেবে মানুষের বানানো দোয়াকে মানব? আমিত মনে করি কখোনোই না।

তবে মনে রাখতে হবে, কোন আমল করতে হলে অবশ্যই তা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমানিত হতে হবে। নয়তোবা তা পরিত্যাজ্য বলে মান্য হবে, কেননা কুরআন-হাদীসের বাইরে মানুষের বানানো হাদিস আমল করাই হল বিদ’আত।

তবে অনেক আলেম ওলামা গনের মতেঃ

“ফি আমানিল্লাহ” এর অর্থটা যেহেতু ভালো তাই দুআ হিসেবে বলতে কোন আপত্তি নাই। তবে এটাকে বিদআত বলা উচিৎ নয়। কিন্তু এই দোয়া জায়েজ বা না-জায়েজ এর প্রমান হিসেবে আমি কোথাও কোনো সহিহ দলিন পাই নি। তবে দলিল হিসেবে অবশ্য বিদায় বেলায় বিদায় দাতা ও বিদায় গ্রহীতার আলাদা দুআ আছে সেটা পড়ার চেষ্টা করা উচিৎ আমাদের।

আরো পড়ুনঃ মাহে রমজান ২০২০ (ক্যালেন্ডার, নিয়ত, ম্যাসেজ, পিকচার ও সময় সূচি)

বিদয়াত পালন কারিদের ব্যাপারে কিছু হাদিস সম্পর্কে জেনে নিন।

রাসূল পাক (সঃ)বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে যার ব্যাপারে আমার শরীতের নির্দেশনা নেই, উহা প্রত্যাখ্যাত।”

[সহীহ মুসলিম-৩২৪৩]

রাসূল (সঃ) আরো বলেন- “নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহ্‌র কিতাব, সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর পদ্ধতি। আর নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে শরীয়াতে নতুন কিছু সৃষ্টি করা, এবং প্রত্যেক বিদ’আত হচ্ছে ভ্রষ্টতা।

[সহীহ মুসলিম-৭৬৮]

মহানবী (সঃ) আরো বলেছেন, “যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়।”

[সহীহ বুখারী-৫০৬৩]

রাসুল (সঃ) এর থেকে যেহেতু বিদায়ের দোয়া সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তাই আমরা সত্যিকারের অর্থে যদি আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তা কামনা করি। তাহলে আমাদের রাসুল (সঃ) এর দোয়াই বেসি গুরুত্বপুর্ন হবে।

রাসুল পাক (সঃ) কাউকে বিদায় দেবার সময় যে দুয়া পড়তেন।

{أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَآخِرَ عَمَلِكَ}

আস্তাওদি উল্লাহা দ্বীনাকা, ওয়াআমা নাতাকা, ওয়াখাওয়া তীমা আ’মালীকা।

[সহীহাহ হাঃ ১৬, ২৪৮৫, সূনান আত তিরমিজী, অধ্যায়: ৪৫/ দু”আসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৩৪৪২, মান: সহীহ]

অর্থ হল: “তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ আমালের ব্যাপারে আমি আল্লাহ তা’আলাকে আমানতদার নিযুক্ত করলাম।”

হে প্রিয় দ্বীনি ভাই বোনেরা আশা করি আমরা আল্লাহ ও রাসুলের শেখানো পদ্ধতিতে আমাদের প্রিয়জনকে সফরকালে বিদায় জানাবো। এতে করে আমাদের একটি সুন্নাত পালন হবে আর আল্লাহত তরফ থেকে মিলবে আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তা।

সুন্নাত পালন প্রসংঞ্জে।

আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেন যে আমার সুন্নাত কে জিন্দা করে সে আমাকে ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।

সুনানে তিরমিযীঃ২৬৭৮।

কোন ব্যাক্তিকে বিদায় দেবার দোয়া।

দুয়া চাওয়া কোন ব্যাক্তি বিদায় কালে কারো কাছে দোয়া চাইলে হাদিস অনুসারে যে দোয়াটি পালন করা উচিৎ।

ফি আমানিল্লাহ

কোন ব্যাক্তিকে বিদায় দেয়ার দোয়া।

এক ব্যাক্তি সফর কালে দোয়া চাইলে দোয়া।

কোন ব্যাক্তি কোথাও সফর কালে কারো কাছে দোয়া চাইলে হাদিস অনুসারে যে দোয়াটি পালন করা উচিৎ।

ফি আমানিল্লাহ

সফর কালে কোনো ব্যাক্তি দুয়া চাইলে তার জন্য দুয়া।

 

এখন প্রাশ্ন যদি কেউ কারো কাছে দুআ চায় তাহলে কী বলে দুআ করা উচিৎ.. ?

অনেকে আছেন কোথাও ভ্রমন কালে নাসা থেকে বের হবার সময় বাসার আত্নিয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের থেকে বিদায় কালে দুয়া চান। আর এরি পরিপেক্ষিতে হয়তো অনেকেই “ফি আমানিল্লাহ” বলে।

যেহেতু এটা বিদায়াত বা জাল এরকম কোনো স্পস্ট দলিল নাই তবে অর্থগত দিক থেকে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া টাই প্রাধান্য বেসি হয় তাই এটা অনেক আলেম ওলামা গনের মতে ঠিক যদি দুয়া চাওয়া ব্যাক্তি কোনো নির্দিষ্ট কারন উল্লেখ না কতে দুয়া চায়।

কারন কোনো ব্যাক্তি যদি বিশেষ কোন কিছু উল্লেখ না করে সাধারণভাবে কারো কাছে দুয়া চায় তাহলে তার জন্য যে কোন দুআ করা জায়েয়।

যেমন ধরুন, আল্লাহ আপনাকে বালা মছিবত মুক্ত রাখুক, আল্লাহ আপনাকে সকলের কল্যানের উপর রাখুক, পরিপুর্ন ঈমানের উপর রাখুক,আপনাকে নিরাপদ রাখুক ইত্যাদি আরো অনেক প্রকার।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

To Top